পবিত্র রমজানের রহমত দশকের তৃতীয় দিন আজ। পুণ্যের বসন্ত-খ্যাত রমজানের অন্যতম সৌন্দর্য হল তারাবির নামাজ। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় তারাবির নামাজ আদায় করবে তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে (বুখারী, মুসলিম)।
নাযন ইবনে শায়বান (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদিসের একাংশে হুজুর (সাঃ) এরশাদ করেছেন, আল্লাহ তোমাদের উপর রমজানের রোজাকে ফরজ করেছেন এবং আমি তোমাদের উপরের তারাবির নামাযকে সুন্নত সাব্যস্ত করেছি। যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রোজা ও তারাবির নামাজ আদায় করবে সে এমন ভাবে গোনাহ মুক্ত হবে যেন এই মাত্র তার মা তাকে প্রসব করল (ইবনে মাজাহ)। তারাবির নামাজ অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। রসুল (সাঃ) তারাবি নামাজের ব্যাপারে ফরজ বা ওয়াজিবের মত কঠোর নির্দেশ দিতেন না, তবে সাহাবীদেরকে এই নামাজের জন্য খুব উৎসাহিত করতেন (মুসলিম)।
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একদা রমজান মাসে রসুল (সাঃ) স্বীয় ঘর হতে বের হয়ে দেখতে পান যে, মসজিদের এক পাশে কিছু সাহাবী নামাজ আদায় করছে। তিনি জিজ্ঞাসা করেন এরা কি করছে? তাকে বলা হল এদের কুরআন মুখস্থ না থাকায় তারা উবাই ইবনে কা’বের (রাঃ) পিছনে মুকতাদি হিসেবে তারাবির নামাজ আদায় করছে।
নবী করীম (সাঃ) বলেন, তারা ঠিকই করছে (আবু দাউদ : ২/১৩৭৭)। তারাবির নামাজের ফজিলত হুজুর (সাঃ) এর কাছে এত বেশী ছিল যে, তিনি জামাতের সাথে সাহাবিদের নিয়ে এই নামাজ বেশ কয়েক দিন আদায় করেছিলেন (ছিহাহ্ সিত্তার সকল কিতাব)। তবে এই নামাজ উম্মতের উপর ফরজ হওয়ার আশঙ্কায় তিনি পরবর্তীতে জামাতের এহতেমাম করেন নি। কিন্তু সাহাবায়েকেরাম (রাঃ) তখনও বিচ্ছিন্নভাবে জামাতের সাথে অথবা একাকী এই নামাজ আদায় করেছেন।
সহিহ হাদিস গ্রন্থ মুয়াত্ত মালিক কিতাবে বর্ণিত আছে, হজরত উমর (রাঃ)-এর খেলাফত কালে সাহাবিরা রমজানে ২০ রাকাত তারাবি ও ৩ রাকাত বিতর পড়তেন। ইহাই শেষ পর্যন্ত স্থির করা হয় (মুয়াত্ত মালিক, তারাবিহ অধ্যায়)। সুনানে বায়হাকিতে ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হুজুর (সাঃ) রমজানে ২০ রাকাত তারাবির নামাজ আদায় করতেন। যাক্ওয়ান আবু আমর (রঃ) নবী করীম (সঃ)-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ)-এর ক্রীতদাস ছিলেন। উক্ত যাক্ওয়ান রমজান মাসে তারাবির নামাজ পড়িতেন এবং আয়েশা (রাঃ) তার পিছনে অন্যান্যদের সাথে মুকতাদি হয়ে নামাজ পড়তেন অথবা তার কুরআন পাঠ শুনতেন (মুয়াত্ত মালিক, তারাবি অধ্যায়)। সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকেই দীর্ঘ চৌদ্দশত বছর যাবৎ মক্কা মোকাররমা ও মদিনা মনোওয়ারার হারামাইন শরীফে ২০ রাকাত তারাবির নামাজ এবং ৩ রাকাত বিতর নামাজ জামাতে আদায় হয়ে আসছে।
খুলনা গেজেট/এনএম

